Monday, April 14, 2014

প্রণয়ে ব্যথা - কামিনী রায়

কেন যন্ত্রণার কথা, কেন নিরাশা ব্যথা,
জড়িত রহিল ভবে ভালবাসা সাথে?
কেন এত হাহাকার, এত ঝরে অশ্রু ধার?
কেন কণ্টকের কূপ প্রণয়ের পথে?

বিস্তীর্ণ প্রান্তর মাঝে, প্রাণ এক যবে খোঁজে
আকুল ব্যাকুল হয়ে সাথী একজন,
ভ্রমি বহু, অতি দূরে, পায় যবে দেখিবারে
একটি পথিক-প্রাণ মনেরি মতন ;-

তখন, তখন তারে, নিয়তি কেনরে বারে,
কেন না মিশাতে দেয় দুইটি জীবন?
অনুলঙ্ঘ্য বাধা রাশি, সম্মুখে দাঁড়ায় আসি--
কেন দুই দিকে আহা যায় দুই জন?

অথবা, একটি প্রাণ, আপনারে করে দান--
আপনারে দেয় ফেলে' অপরের পায় ;
সে না বারেকের তরে, ভুলেও ভ্রুক্ষেপ করে,
সবলে চরণতলে দলে' চলে' যায় |

নৈরাশপূরিত ভবে, শুভযুগ কবে হবে,
এরটি প্রাণের তরে আর একটি প্রাণ
কাঁদিবে না সারা পথে ;-- প্রণয়ের মনোরথে
স্বর্গমর্ত্যে কেহ নাহি দিবে বাধা দান?

('আলো ও ছায়া' থেকে নেওয়া)

পাছে লোকে কিছু বলে - কামিনী রায়



করিতে পারিনা কাজ, সদা ভয়, সদা লাজ,
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি, নীরবে আপনা ঢাকি
সম্মুখে চরণ নাহি চলে ,
পাছে লোকে কিছু বলে।

কাঁদে প্রাণ যবে, আঁখি সযতনে শুষ্ক রাখি
নির্মল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

একটি স্নেহের কথা প্রশমিত পারে ব্যথা
চলে যায় উপেক্ষার ছলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

মহৎ উদ্দেশ্য যবে একসাথে মিলে সবে,
পারিনা মিলিতে সেই দরে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

বিধাতা দিয়েছে প্রাণ, থাকি সদা ম্রিয়মান,
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

কত ভালবাসি - কামিনী রায়

জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,-
‘মা, তোমারে কত ভালবাসি!'
‘কত ভালবাস ধন?' জননী সুধায়।
‘এ-তো-' বলি দুই হাত প্রসারি দেখায়।

‘তুমি মা আমারে ভালবাস কত খানি?'
মা বলেন, ‘মাপ তার আমি নাহি জানি।'

‘তবু কতখানি, বল!'
‘যতখানি ধরে তোমার মায়ের বুকে।'
‘নহে তার পরে?'

‘তার বেশি ভালবাসা পারিনা বাসিতে'
‘আমি পারি'। বলে শিশু হাসিতে হাসিতে।

আদর্শ ছেলে - কুসুমকুমারী দাশ

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে? মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন ‘মানুষ হইতে হবে’ এই যার পণ । বিপদ আস...