আদর্শ ছেলে - কুসুমকুমারী দাশ



আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
‘মানুষ হইতে হবে’ এই যার পণ ।

বিপদ আসিলে কাছে, হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?

সে ছেলে কে চায় বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
সাদা প্রাণে, হাসি মুখে কর এই পণ-
‘মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন’ ।

কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ, এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের কল্যাণ ।

চল্ চল্ চল্ - কাজী নজরুল ইসলাম



চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণীতল
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্‌রে চল্‌রে চল্‌
চল্ চল্ চল্ ।।

ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল ।

নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মশান
আমরা দানিব নতুন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল ।

আমি হব - কাজী নজরুল ইসলাম

আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুমবাগে
উঠব আমি ডাকি !
সুয্যি মামা জাগার আগে
উঠব আমি জেগে,
হয় নি সকাল, ঘুমো এখন,
মা বলবেন রেগে ।
বলব আমি – আলসে মেয়ে
ঘুমিয়ে তুমি থাক,
হয় নি সকাল, তাই বলে কি
সকাল হবে না ক ?
আমরা যদি না জাগি মা
কেমনে সকাল হবে ?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা
রাত পোহাবে তবে ।

বড় কে? - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত



আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয় ।
বড় হওয়া সংসারেতে
কঠিন ব্যাপার,
সংসারে সে বড় হয়,
বড় গুণ যার ।
হিতাহিত না জানিয়া
মরে অহংকারে,
নিজে বড় হতে চায়
ছোট বলি তারে ।
গুণেতে হইলে বড়,
বড় বলে সবে,
বড় যদি হতে চাও
ছোট হও তবে ।

জীবন সঙ্গীত - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়



বলো না কাতর স্বরে,                বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার,                     তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্রন্দন;
মানব-জনম সার,                      এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়,          জীবাত্মা অনিত্য নয়
ওহে জীব কর আকিঞ্চন ।
করো না সুখের আশ,                পরো না দুখের ফাঁস,
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সংসারে সংসারী সাজ,              করো নিত্য নিজ কাজ,
ভবের উন্নতি যাতে হয় ।

দিন যায় ক্ষণ যায়,             সময় কাহারো নয়,
বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,
সহায় সম্পদ বল,              সকলি ঘুচায় কাল
আয়ু যেন শৈবালের নীর ।
সংসার-সমরাঙ্গনে                    যুদ্ধ কর দৃঢ় পণে,
ভয়ে ভীত হইও মানব;
কর যুদ্ধ বীর্যবান,                      যায় যাবে যাক প্রাণ
মহিমাই জগতে দূর্লভ ।
মনোহর মূর্তি হেরে,                 ওহে জীব অন্ধকারে,
ভবিষ্যতে করো না নির্ভর;
অতীত সুখের দিন,                   পুনঃ আর ডেকে এনে,
চিন্তা করে হইও না কাতর ।
মহাজ্ঞানী মহাজন,                    যে পথে করে গমন,
হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে                  স্বীয় কীর্তি ধ্ব্জা ধরে
আমরাও হব বরণীয় ।
সমর-সাগর-তীরে,                   পদাঙ্ক অঙ্কিত করে
আমরাও হব হে অমর;
সেই চিহ্ন লক্ষ করে,                 অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর ।
করো না মানবগণ,                    বৃথা ক্ষয় এ জীবন
সংসার সমরাঙ্গন মাঝে;
সঙ্কল্প করেছ যাহা,                    সাধন করহ তাহা,
রত হয়ে নিজ নিজ কাজে ।
  
দিন যায়, ক্ষণ যায়,                   সময় কাহারো নয়,
বেগে ধায়, নাহি রহে স্থির,
সহায় সম্পদ বল,                     সকলি ঘুচায় কাল,
আয়ু যেন শৈবালের নীর ।

জাতি-দেশ-বর্ণ ভেদ ধর্ম ভেদ নাই ।
শিশুর হাসির কাছে,                  সবি প’ড়ে থাকে পাছে,
যেখানে যখন দেখি তখনি জুড়াই।